ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক থাকুন, যেসব খাবারে ঝুঁকি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮:৪৯, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক থাকুন, যেসব খাবারে ঝুঁকি

ছবি : সংগৃহীত

রান্না করা খাবার গরম করা কিংবা দ্রুত রান্নার জন্য মাইক্রোওয়েভ বেশ কার্যকর। তবে সব ধরনের খাবার এতে গরম করা সমান নিরাপদ নয়। কিছু খাবারের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে পুষ্টিগুণ ও স্বাদে প্রভাব পড়তে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিও। জেনে নেওয়া যাক, মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম বা রান্নার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

১. ব্রকলি

ব্রকলি ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদানে সমৃদ্ধ। তবে মাইক্রোওয়েভে রান্না করলেই এর সব পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়—এ ধারণা সঠিক নয়। রান্নার পদ্ধতি, সময় ও পানির পরিমাণের ওপর পুষ্টি ধরে রাখার বিষয়টি নির্ভর করে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করে অল্প সময়ে ভাপে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

২. ডিম

খোসাসহ আস্ত ডিম মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়। তাপের কারণে ডিমের ভেতরে বাষ্প ও চাপ তৈরি হয়ে এটি ফেটে যেতে পারে। এমনকি মাইক্রোওয়েভ থেকে বের করার পরও ডিম বিস্ফোরিত হয়ে পোড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ডিম সেদ্ধ করতে চুলা ব্যবহার করাই ভালো। মাইক্রোওয়েভে ডিম রান্না করতে হলে খোসা ছাড়িয়ে উপযুক্ত পাত্রে নিয়ে কুসুম ফুটো করে এবং নিরাপদ নির্দেশনা মেনে রান্না করতে হবে।

৩. ভাত

ভাত রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামের ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করতে পারে। এর কিছু বিষাক্ত উপাদান পুনরায় গরম করলেও নষ্ট নাও হতে পারে। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাই রান্না করা ভাত দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে। পুনরায় গরম করার সময় ভাতের সব অংশ ভালোভাবে গরম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। মাইক্রোওয়েভে ভাত গরম করা নিজে থেকেই অনিরাপদ নয়; মূল বিষয় হলো ভাতের সঠিক সংরক্ষণ ও সমানভাবে গরম করা। চুলায় সামান্য পানি দিয়ে নাড়তে নাড়তে গরম করলেও ভাতের আর্দ্রতা বজায় থাকে।

৪. আলু

আলু রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় রান্না করা আলু যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করলে ক্লস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum) নামের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তাই ফয়েলে মোড়ানো আলু রান্নার পর দ্রুত ফয়েল খুলে ফ্রিজে রাখতে হবে। পুনরায় গরম করার সময় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা যায়, তবে আলু যেন সমানভাবে গরম হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প হিসেবে ওভেনে গরম করা যেতে পারে।

৫. কাঁচা মুরগির মাংস

কাঁচা মুরগির মাংস মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে তাপ অসমভাবে ছড়িয়ে কিছু অংশ কাঁচা থেকে যেতে পারে। এতে সালমোনেলা (Salmonella)সহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার আশঙ্কা থাকে। ফলে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মুরগির মাংস রান্নার ক্ষেত্রে চুলা, ওভেন বা গ্রিল ব্যবহার করা যেতে পারে। মাইক্রোওয়েভেও মাংস রান্না করা সম্ভব, তবে সঠিক নির্দেশনা অনুসরণ করে সব অংশ নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মাংস ছোট টুকরো করে রান্না করলে তাপ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে।

খাবার গরমে যেসব বিষয় মনে রাখবেন

মাইক্রোওয়েভে সব খাবার গরম করা এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের ধরন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোওয়েভ-উপযোগী পাত্র ব্যবহার করুন, খাবার মাঝপথে নেড়ে দিন এবং গরম করার পর কিছুক্ষণ রেখে তাপ সমানভাবে ছড়াতে দিন। রান্না করা খাবার দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় না রাখাও খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন