শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০:১২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফাইল ছবি
হাঁটুর ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যা বেশি দেখা গেলেও তরুণদেরও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটা, খেলাধুলায় আঘাত, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা হাঁটুর জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যথা হতে পারে।
অনেক সময় সামান্য বিশ্রাম ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই ব্যথা কমে যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকলে বা ব্যথার সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্রাম নিন
হাঁটুর ব্যথা শুরু হলে কিছুদিন অতিরিক্ত হাঁটা, দৌড়ানো বা ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। তবে দীর্ঘ সময় একেবারে নড়াচড়া না করে থাকাও ঠিক নয়। ব্যথা কমার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে হবে।
ঠান্ডা বা গরম সেঁক
নতুন করে আঘাত লাগার পর হাঁটু ফুলে গেলে কাপড়ে মোড়ানো বরফ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সেঁক দেওয়া যেতে পারে। দিনে কয়েকবার এটি করা যায়।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা পেশিতে শক্তভাব থাকলে উষ্ণ সেঁক কিছুটা আরাম দিতে পারে। সরাসরি ত্বকের ওপর বরফ বা অতিরিক্ত গরম কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হাঁটুর জন্য উপকারী হতে পারে।
হালকা ব্যায়াম করুন
হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। ধীরে হাঁটা, সাঁতার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
তবে ব্যায়াম করার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে তা বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় থাকবেন না
দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হাঁটুর ওপর চাপ পড়তে পারে। কাজের ফাঁকে অবস্থান পরিবর্তন করা এবং কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা ভালো।
সঠিক জুতা ব্যবহার করুন
হাঁটার সময় আরামদায়ক ও পায়ের সঙ্গে মানানসই জুতা ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় শক্ত বা অস্বস্তিকর জুতা ব্যবহার করলে হাঁটু ও পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
ব্যথার ওষুধে সতর্কতা
হাঁটুর ব্যথায় নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
হাঁটুর ব্যথা কয়েকদিনেও না কমলে, বারবার ফিরে এলে বা দৈনন্দিন চলাফেরায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া হাঁটু হঠাৎ ফুলে গেলে, তীব্র ব্যথা হলে, হাঁটতে বা ভর দিতে না পারলে, আঘাতের পর হাঁটুর আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দিলে কিংবা হাঁটুর সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
হাঁটুর ব্যথার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথাকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং সঠিক জীবনযাপন হাঁটুর সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই