ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

ত্রিশালে সোয়া দুই কোটি টাকার সড়ক, হাত-পায়ের চাপে উঠে যাচ্ছে পিচ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯:১৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ত্রিশালে সোয়া দুই কোটি টাকার সড়ক, হাত-পায়ের চাপে উঠে যাচ্ছে পিচ

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির একটি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও কার্পেটিংয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার এক দিন না যেতেই হাত দিয়ে টানলে বা পায়ের সামান্য চাপে উঠে আসছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার ধলা খানবাড়ি তিন রাস্তার মোড় থেকে প্রায় ২ হাজার ৩৯৮ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ। সম্প্রতি সড়কটির প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিং শেষ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিচ ঢালাইয়ের আগে সড়কে প্রয়োজনীয় বিটুমিন প্রাইম কোট ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়নি। তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, পা দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই পিচের আস্তরণ ভেঙে উঠে যাচ্ছে। কাজের সময় অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদারের লোকজন তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও বিটুমিন না দিয়ে কাজ শেষ করায় হাত দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, তারা সিডিউল ও নিয়ম মেনেই কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কার্পেটিং কেন উঠে যাচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জুবায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি কারিগরিভাবে পরীক্ষা করা হবে। কাজে গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দায়সারা মেরামতের পরিবর্তে পুরো নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন