শিরোনাম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:১৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ডাকাতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এ অপরাধের জেরে এ হামলা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
তবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাটি এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে এক প্রবাসীর বাড়িতে অস্ত্রের মুখে এক গৃহবধূকে (৩৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি রাজিবকে (২৩) গ্রেপ্তার করে। পরে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার বাকি ৪ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামি শরীফসহ বাকি অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘরের টিন ও বেড়া ভাঙচুর করে। তবে হামলার পূর্বেই আসামির পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচেতন নাগরিক ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি আসলেই ঘটেছে কি না, কিংবা সেখানে কার কতটুকু দায় ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব দেশের প্রচলিত আদালতের। আদালতই একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ, যা সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান তামান্না প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই দোষী কি না, তা বিচারিক আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পূর্বেই এভাবে কারও বাড়িঘরে মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো অত্যন্ত ঘৃণিত এবং একটি ন্যক্কারজনক বিষয়। এ ধরনের গণবিচার দেশের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় এবং অপরাধের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। অপরাধীর শাস্তির দাবি যেমন যৌক্তিক, তেমনই অপরাধ প্রমাণের আগে তার পরিবারের ওপর বা বসতবাড়িতে এমন সহিংস হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গফরগাঁও থানা পুলিশ সাধারণ জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের ঘটনার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস