শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৫৯, ১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০৪, ১ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
বর্ষা কিংবা বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ—ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ।
বেশিরভাগ রোগী বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তাই আক্রান্ত হলে কী করতে হবে এবং কী এড়িয়ে চলতে হবে, তা জানা জরুরি।
যা করবেন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
ডেঙ্গু হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত তরল পান করুন।
পানি, ওরস্যালাইনসহ উপযুক্ত তরল গ্রহণ করুন। পানিশূন্যতা এড়াতে নিয়মিত তরল পান করা জরুরি।
জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল নিন।
ডেঙ্গুতে জ্বর ও ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে ওষুধের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
শরীরের পরিবর্তন নজরে রাখুন।
জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জ্বর কমার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টাতেও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
আক্রান্ত ব্যক্তি মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকলে অন্য মশার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। মশারি ও মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে।
যা করবেন না
অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাবেন না।
এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয় WHO ও CDC।
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ। তাই সাধারণ ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার বিকল্প নয়।
শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্ধারণে রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও সতর্কতামূলক উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, বমি বা পায়খানায় রক্ত, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এসব গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কতামূলক লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। গুরুতর ডেঙ্গু দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে এবং হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধেই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগীর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে, তাই দিনের সময়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, সঠিক ওষুধ ব্যবহার এবং বিপদের লক্ষণগুলো চিনতে পারাই পারে গুরুতর জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
নোট: এটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য; ব্যক্তির বয়স, গর্ভাবস্থা, অন্যান্য রোগ বা ওষুধের ওপর চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই