ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

সেন্টমার্টিনের পর্যটন নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪:০০, ১ অক্টোবর ২০২৬

সেন্টমার্টিনের পর্যটন নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বীপের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর আওতায় পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাত্রিযাপনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক পর্যটককে পাস দেওয়া হয়। নীতিমালায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন না।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের কারণে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

দ্বীপের ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা পর্যটন মৌসুম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ রাখা হলে স্থানীয় ব্যবসা ও জীবিকা উপকৃত হবে।

তবে পরিবেশবিদদের কেউ কেউ সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে নন। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটনের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পর্যটন মৌসুম কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি হওয়া উচিত নয়।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন সময়ে পর্যটকরা যেতে পারবেন এবং কতজন রাত্রিযাপন করতে পারবেন—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।

সব পক্ষের বক্তব্য ও পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন গাইডলাইন দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন