শিরোনাম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:১৯, ১ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
‘এই হেমন্তে কাটা হবে ধান; আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান’—সুকান্তের কবিতার এই পংক্তি কিংবা পল্লীকবি জসিম উদ্দীনের ‘ধানখেত’ কবিতার লাইনগুলো মনে করিয়ে দেয় হেমন্তের চিরচেনা রূপ। যদিও ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালির নবান্ন উৎসব সাধারণত পহেলা অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়, তবে এখন আর অগ্রহায়ণের জন্য পুরোপুরি অপেক্ষা করতে হয় না।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মধ্য কার্তিক থেকেই শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই। মাঠভরা বাম্পার ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হালকা শীতল বাতাসে মাঠের পর মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের শীষ। চারপাশ চত্বরে নতুন আমনের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো সঠিক পরিচর্যা করতে পারায় ধান পুষ্ট হয়েছে দারুণভাবে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে প্রায় ১০ ভাগ ধান পাকা শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধান উৎপাদনের দিক থেকে ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার মধ্যে গফরগাঁও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি উপজেলা। এ বছর আগাম জাতের ধান চাষ করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা। মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কৃষকদের ধারণা, আবহাওয়া এমন থাকলে এ বছর আমনের ফলন গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
আগাম আমন ধান কাটার এ ইতিবাচক দিক ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী বলেন, আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন দারুণ হয়েছে। আশা করছি, এ বাম্পার ফলনে কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগাম জাতের এ ধান কেটে ফেলার ফলে কৃষকরা একই জমিতে পরবর্তীতে দ্রুত সরিষা কিংবা অন্য রবিশস্য চাষের প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এতে কৃষকের বহুমুখী আয়ের পথ উন্মুক্ত হবে এবং সার্বিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস