শিরোনাম
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:২৩, ১ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গত ১০ মাস পার করেছেন ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ুষ্কাল হয়তো আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর।
তবে মৃত্যুর সে পূর্বাভাস ও কঠিন চিকিৎসাপ্রক্রিয়া পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাসের বিরতি ভেঙে সম্প্রতি আবারও শুটিং সেটে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে পেরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, এটি তার জন্য একপ্রকার দ্বিতীয় জন্ম।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্প তুলে ধরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।
অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমাতে পারতেন না। পাশাপাশি ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ শেষ করার পর এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
প্রায় ১০ মাস পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নাটকটিতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া। গল্পে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।
অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে খুব মিস করছিলেন। তার কাছে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের মতো। তাই শুটিংয়ে ফিরে মানসিকভাবেও স্বস্তি অনুভব করছেন। প্রথম দিনের কাজেও পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।
তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এখনো চিকিৎসকদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চলমান কেমোথেরাপির মধ্যে শুটিং করলে শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে কাজে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। পরে অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি পান। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমারের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে বমির সমস্যা বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন পরীক্ষার প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।
প্রথমদিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশাই করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট যখন তাকে জানান, তার আয়ু আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর হতে পারে, তখন মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।
প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ের মতো করে কথা বলেছিলেন। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পাশে মা ও বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান।
অসুস্থতার পুরো সময় মায়ের নিরলস সেবা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। পাশাপাশি নাট্যাঙ্গনের সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় ও প্রযোজক আলী বশীরসহ অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।
এদিকে অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও ক্যারিয়ার সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে আবারও সেই ভালোবাসার জায়গায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী।
ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তানিয়া বৃষ্টির পরামর্শ, রোগের নাম শুনেই যেন কেউ মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন। মনোবল ধরে রাখা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস