শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৩৮, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩৯, ৯ অক্টোবর ২০২৬
মাহবুব কবীর মিলন। ছবি: তার ফেসবুক থেকে নেওয়া
রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য দায়িত্ব চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দায়িত্ব চান। এ জন্য কোনো পদ-পদবি বা বেতন-ভাতা না চেয়ে শুধু কাজ করার ক্ষমতা ও যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব দিলে ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেখাবেন। এ সময় তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান।
দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তাঁর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এ কাজে চুক্তিভিত্তিক কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক এবং চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যুক্ত করতে চান তিনি। সফল হলে অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষকদের এক বা দুই বছরের জন্য কাজে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান।
মিলন আরও লেখেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা প্রয়োজন হবে। সফল হলে ম্যাজিস্ট্রেটরা ফিরে যাবেন এবং পুলিশি সহায়তায় টিকিট পরীক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করবেন।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কোচে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রীদের পরিচয় ও টিকিট যাচাই করা হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে। যার নামে টিকিট, তাঁকেই ভ্রমণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি টিকিট পরীক্ষক, চেকার ও গার্ডদের শরীরে বডি ক্যামেরা রাখার কথা উল্লেখ করেন।
টিকিটের নিয়ম শতভাগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহবুব কবীর মিলন বলেন, অন্যায়কারীদের পক্ষে কেউ তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রার তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থাও চালু করতে চান তিনি। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত দুই রুটে সফলতা এলে পর্যায়ক্রমে অন্য রুটগুলোতেও এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাহিনীটির আইন ও বিধিবিধানের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চান। বাহিনীটির নিয়ন্ত্রণ রেল অধিদপ্তরের পরিবর্তে রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাহিনীটিকে আধুনিক ও কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলা এবং রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনার কথা জানান।
মাহবুব কবীর মিলনের অভিযোগ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্বের অপব্যবহার হচ্ছে। তাঁর মতে, বাহিনীটির মূল দায়িত্ব ও আইনগত ক্ষমতা যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে রেলওয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের বিষয়েও এক মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, যথাযথ ক্ষমতা পেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, দায়িত্ব পালনে তাঁকে এক মাসের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। কাজের অগ্রগতি জনগণকে জানানো হবে এবং ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতেও তিনি প্রস্তুত।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই