শিরোনাম
সাইদুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৭:১৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বিশ্বে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বড় শক্তিগুলোর সামরিক সম্পৃক্ততা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। রাশিয়ার হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে। এতে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
কেন বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা?
দুটি বড় অঞ্চলে একই সময়ে সংঘাত চলায় বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, এসব যুদ্ধ কি বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো বড় শক্তিগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রোন, সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পারমাণবিক অস্ত্র। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক শক্তিধর দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে। ফলে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সংঘর্ষ হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে
যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সামনে কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতিই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের প্রধান পথ। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক পরিস্থিতি নেই। তবে একাধিক অঞ্চলে চলমান সংঘাত, বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি বিশ্বকে একটি সংবেদনশীল সময়ের মধ্যে নিয়ে গেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যুদ্ধ শুরু হবে কি না, শুধু তা নয়। বরং চলমান সংঘাতগুলোকে কীভাবে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকানো যায়—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই