ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিকল্পে নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫:৫৭, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিকল্পে নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে

ছবি : সংগৃহীত

নারীদের সৌন্দর্যের পরিবর্তে মেধা, বুদ্ধি ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশটিতে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিতের পর নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে চালু করা হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা ‘হাকিলি মুসো’। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে দেশটিতে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিতের আদেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। সরকারের ভাষ্য, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐতিহ্য ও মানবমর্যাদা রক্ষায় নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া চলাকালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাগুলো বন্ধ থাকবে।

এর ধারাবাহিকতায় আগস্টে ‘হাকিলি মুসো’ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেন ৮৪ জন তরুণী। তাঁদের প্রত্যেকেই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট বা উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মূল প্রতিযোগিতার আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো বিষয়ে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচ প্রতিযোগীকে নির্বাচিত করে পুরস্কার ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। প্রথম স্থান অর্জনকারীরা প্রত্যেকে পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন উপহার।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে। তিনি তরুণীদের অভিনন্দন জানান এবং নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। দেশটির সমাজে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশাকে পুরুষদের ক্ষেত্র হিসেবে দেখার যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা বদলাতেও এ প্রতিযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি নারীকে আগ্রহী করে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আফ্রিকা ডট ওয়ার্ল্ড

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন