শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৫২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সবচেয়ে জটিল ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রোস্টেট ক্যানসার। পুরুষরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থি প্রোস্টেটে ক্যানসার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পরে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রোস্টেট ক্যানসারের ধরন
প্রোস্টেট ক্যানসার কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন—
১. অ্যাসিনার অ্যাডেনোকার্সিনোমা: প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতরের আস্তরণের গ্রন্থিকোষে এ ধরনের ক্যানসার বিকশিত হয়। প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তির এ ধরনের ক্যানসার হয়ে থাকে।
২. ট্রানজিশনাল সেল বা ইউরোথেলিয়াল ক্যানসার: এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত মূত্রাশয়ে শুরু হয়ে পরে প্রোস্টেটে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. স্কোয়ামাস সেল ক্যানসার: প্রোস্টেট গ্রন্থিকে আবৃত করে থাকা চ্যাপ্টা কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার বিকশিত হয়। এটি প্রোস্টেটের অ্যাডেনোকার্সিনোমার তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ছড়িয়ে পড়ে।
প্রোস্টেট ক্যানসার কাদের হয় ও কেন হয়
প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি মিউটেশনের কারণে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দ্রুত বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রোস্টেটে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কয়েকটি কারণ হলো—
* পরিবারের কারও প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে;
* যৌনরোগ প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে;
* পুরুষদেরই প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে;
* ক্যাডমিয়ামের মতো কার্সিনোজেনিক রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি;
* আফ্রিকান ও আমেরিকান পুরুষদের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ
প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* ঘন ঘন মূত্রত্যাগ;
* প্রস্রাবে রক্ত;
* বেদনাদায়ক বীর্যপাত;
* ওজন কমে যাওয়া;
* হাড়ে ব্যথা;
* পেলভিক অঞ্চলে অস্বস্তি;
* ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।
প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা
প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। কোন চিকিৎসা দেওয়া হবে, তা নির্ভর করে ক্যানসার কত দ্রুত বাড়ছে, কতটা ছড়িয়েছে এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর।
চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে—
* বিকিরণ থেরাপি;
* হরমোন থেরাপি;
* জৈবিক থেরাপি;
* কেমোথেরাপি;
* প্রোস্টেট অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার।
প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার হার প্রায় ১০০ শতাংশ। আর ১০ থেকে ১৫ বছর পরেও বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৮ থেকে ৯৬ শতাংশ।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস