ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮

ব্রয়লার না দেশি, কোন মুরগির ডিম পুষ্টিতে এগিয়ে?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩:০৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ব্রয়লার না দেশি, কোন মুরগির ডিম পুষ্টিতে এগিয়ে?

ছবি: সংগৃহীত

ডিমের প্রসঙ্গ এলে আরও একটি প্রশ্ন ওঠে—খোলা-মেলা পরিবেশে পালিত মুরগির ডিম ভালো, নাকি ব্রয়লার মুরগির ডিম?

ডায়েটারি কনসালট্যান্ট অর্থাৎ পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক ডা. অরুণ কুমার বলেন, বাস্তবে দুই ধরনের ডিমেই প্রায় একই পরিমাণ প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগি প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হয়। ফলে তাদের ডিমে ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এ কারণেই উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগির ডিমের কুসুম তুলনামূলক গাঢ় হলুদ ও ঘন দেখায়। অন্যদিকে, পোল্ট্রি ফিড খাওয়ানো ব্রয়লার মুরগির ডিমের কুসুমের রং কিছুটা হালকা হয়।

এ ছাড়া পোকামাকড় ও ঘাসের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণের কারণে উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগির ডিমে ওমেগা-৩-এর পরিমাণও কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এই সামান্য পার্থক্য ছাড়া দুই ধরনের ডিমের মধ্যে আর কোনো বড় পার্থক্য নেই। উভয় ডিমেই প্রোটিনের পরিমাণ একই।

ক্যারোটিনয়েড হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ, যার কারণে ডিমের কুসুম হলুদ-কমলা রং ধারণ করে। এই রঙের সঙ্গে মুরগি কী ধরনের খাবার খাচ্ছে, তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ডা. অরুণ কুমার আরও জানান, কেউ যদি শুধুমাত্র প্রোটিনের জন্য ডিম খান, তাহলে ব্রয়লার মুরগির ডিম খেলে কোনো ক্ষতি নেই। দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা খরচ করে ফ্রি-রেঞ্জ ডিম অর্থাৎ উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগির ডিম কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।

মুরগিকে কি হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়?

শুধু ডিম নয়, মুরগির স্বাস্থ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দিন ধরেই মুরগিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় বলে শোনা যায়।

ডা. অরুণ কুমার বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। হরমোন দিয়ে কোনো মুরগি পালন করা যায় না। শুধু তা-ই নয়, এভাবে মুরগি পালন করতে গেলে এর জন্য আকাশছোঁয়া খরচ হবে। বাস্তবে মুরগির রোগ প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়। এসব টিকাকে অনেকে ভুল করে হরমোন ইনজেকশন বলে মনে করেন।

পাশাপাশি এমন একটি ধারণাও রয়েছে যে, ডিম বা মুরগির মাংস খাওয়ার কারণে মেয়েদের পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধি আগে হয়।

তবে এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন ডা. অরুণ কুমার।

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, গত ১০০ বছরে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী পরিবারগুলোর মেয়েদের বয়ঃসন্ধির গড় বয়সও কমেছে। সুতরাং বাছুরের মাংস বা ব্রয়লার মুরগির ডিম খাওয়ার সঙ্গে মেয়েদের অকাল বয়ঃসন্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন