শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:৩২, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) দফায় দফায় সড়ক অবরোধ করায় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং দুই দিনের মধ্যে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে জালিয়াতি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থারও দাবি করেছেন তারা।
শনিবার বেলা ১১টায় ১১তম গ্রেডের এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা প্রার্থীরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রথম দফায় শাহবাগের সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন। পরে তারা আবারও সড়কে অবস্থান নেন। এতে দ্বিতীয় দফায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে আরও পরীক্ষার্থী এসে বিক্ষোভে যোগ দেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষা কেন্দ্রে সেগুলো শনাক্ত করার জন্য স্ক্যানারের ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
শুধু শাহবাগ নয়, রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনেও পরীক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। ফলে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদ রাজধানীর একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মাজহারুল হক জানান, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।
ঝিনাইদহ থেকে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতার দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তানভীর বলেন, অনেকে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাদের ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।
নীলফামারী থেকে আসা আরেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি পরীক্ষা দিতে দূর থেকে ঢাকায় এসেছেন। এখন যাতায়াতের খরচ কে দেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়ার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান আন্দোলনকারীরা। আপাতত সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই