ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

রংপুরে ৪ খুন: আলামতের সঙ্গে মিলল মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডিএনএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:০৯, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরে ৪ খুন: আলামতের সঙ্গে মিলল মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডিএনএ

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুর, কামড়ানো শসা ও সিগারেটের অংশবিশেষের নমুনার সঙ্গে আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর শতভাগ মিল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলাটির তদন্ত তদারকির দায়িত্বে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

সিআইডি ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ায় নিজেদের বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে সন্দেহজনক কয়েকটি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে ডিবি।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে খেজুর, কামড়ানো শসার অংশ ও সিগারেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেগুলো সিআইডির ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএর শতভাগ মিল পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার এ ফল আসামিদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রেও এটি জোরালো ভূমিকা রাখবে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফল থেকে হত্যাকাণ্ডে ওই দুই আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছেন। তাদের দাবি, যেকোনো পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হলেও একই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সিআইডির প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আমরা এখন নিশ্চিত হয়েছি, হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিরা যে খেজুর, শসা ও সিগারেট খেয়েছিল, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা সেসব আলামত গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহৃত বলে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। এটা এখন শতভাগ সত্য।’

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর পাশের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি বেয়ে উঠে তারা ওই বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের জিন্নাত আলী জানান, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পৃথক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই সন্তান। ভোররাতে শব্দ শুনে গণপতি তৃতীয় তলার খোলা ছাদে গেলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে সেখানেই তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, চারজনকে হত্যার পরও কিছু সময় বাড়িটিতে অবস্থান করেন দুই আসামি। এ সময় তারা গোসল করেন, খেজুর ও শসা খান। পাশাপাশি তিনটি আলমারি খুলে তিনটি কক্ষের কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরে বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা ও ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান বলে দাবি ডিবি পুলিশের।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন