ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

প্রধানমন্ত্রীর হাতেখড়ির শিক্ষক থাকেন পাথরঘাটায়

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২:৪৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর হাতেখড়ির শিক্ষক থাকেন পাথরঘাটায়

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

দেয়ালে টাঙানো পুরোনো ছবি, আলমারিতে সাজানো বইয়ের স্তূপ। বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি। বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ছোট বাসায় থাকেন অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল রশিদ। বয়সের ভারে এখন ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। চলাফেরার জন্য অন্যের সাহায্য নিতে হয়। তবে কথা বলতে শুরু করলেই চোখেমুখে ফুটে ওঠে অন্যরকম এক উজ্জ্বলতা।

কারণ, তার দাবি, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেখড়ি হয়েছিল তার হাতেই।

অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ জানান, ১৯৭২ সালের কথা। তখন তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। সে সময় মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। শিশুটি আর কেউ নয়, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তখন পরিবারের সদস্যরা আদর করে তাকে ‘পিনু’ নামে ডাকতেন।

তিনি বলেন, “পিনু তখন অনেক ছোট। খুব চতুর আর বুদ্ধিমান ছিল। ওর মনে আছে কি না জানি না, কিন্তু আমি ওকে পড়িয়েছি।”

এই প্রবীণ শিক্ষকের স্মৃতিতে শুধু ছাত্র পিনুই নন, আছেন তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও। অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদের ভাষ্য, একবার জিয়াউর রহমান তার বাসায় এসে খাবার খেয়েছিলেন। তিনি নিজেই বাজার থেকে রসগোল্লা ও বিস্কুট এনে চায়ের সঙ্গে দিয়েছিলেন। খেতে বসে জিয়াউর রহমান নাকি বলেছিলেন, মিষ্টি না হলেও চলত।

অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ বলেন, “জিয়া সাহেব খাওয়া-দাওয়ায় অত্যন্ত সাধারণ ছিলেন। আমার বাসায় বসে কাঁঠাল দিয়ে একটা মুখে দিয়েছিলেন।”

তিনি আরও জানান, ১৯৭৮ সালে ছোট্ট পিনু কেমন আছে, তা জানতে চেয়ে জিয়াউর রহমানের কাছে চিঠিও লিখেছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ। তার দাবি, বহু গুণীজন তার ছাত্র ছিলেন। জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও তার ছাত্র ছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে এত বড় পরিচয় থাকলেও তার মধ্যে নেই কোনো অহংকার কিংবা চাওয়া-পাওয়ার হিসাব।

প্রধানমন্ত্রী তার একসময়ের ছাত্র। তার কাছে কিছু চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ। পরে বলেন, “আমার কিছুই চাওয়ার নেই। আমি শুধু দোয়া করি, সে যেন দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। আল্লাহ যেন তাকে ঠিকমতো কাজ করার তৌফিক দেন, যাতে দেশের উপকার হয়।”

পাথরঘাটার এই নিভৃত বাসায় বসে আজও বই পড়েন তিনি, মনে করেন পুরোনো দিনের কথা। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার স্মৃতি থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। একজন আদর্শ শিক্ষকের মতোই তিনি চান, তার ছাত্র যেন নিজের কর্মের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনে জায়গা করে নেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন