ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

তিন দিনের উত্তেজনা শেষে ফতুল্লায় স্বস্তি, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি

আল আমীন অর্ণব, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:২৬, ৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৮, ৫ নভেম্বর ২০২৬

তিন দিনের উত্তেজনা শেষে ফতুল্লায় স্বস্তি, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

টানা তিন দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধের চেষ্টা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিল্পাঞ্চল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের উপস্থিতি ও উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক দেখা গেছে। সড়কেও ফিরেছে যান চলাচল। তবে নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, রামারবাগ, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় শ্রমিকদের স্বাভাবিক চলাচল দেখা যায়। পোশাক কারখানাগুলোতেও কাজে যোগ দেন শ্রমিকেরা। টানা তিন দিনের উত্তেজনার পর এলাকাগুলোতে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে।

এর আগে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিলেও বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় সড়ক অবরোধের চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়।

বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না প্রশাসন। কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিবু মার্কেট থেকে আশপাশের বিভিন্ন সড়কে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন শিল্প পুলিশের সদস্যরাও।

বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শ্রমিক ভাইয়েরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কাজ করছেন।’

শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে উসকানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দেশি-বিদেশি চক্রের কারণে মজুরি বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও তাদের উসকানিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো শ্রমিক যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এদিকে ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়। চাষাঢ়া শহীদ মিনারে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি।

চাষাঢ়া এলাকায় পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি), জলকামান, বিজিবির দুটি গাড়ি ও শিল্প পুলিশের দুটি ভ্যান মোতায়েন রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও শিল্পাঞ্চল ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন