ঢাকা, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

একাত্তরের রাজাকার ও ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:৫৫, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০১, ৭ নভেম্বর ২০২৬

একাত্তরের রাজাকার ও ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার: রাশেদ খাঁন

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

একাত্তরের রাজাকার ও ২০২৪ সালের রাজাকাররা মিলেমিশে বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং ২০২৪ সালে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত র‌্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একাত্তরের রাজাকার ও ২৪-এর রাজাকার যদি বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়, তাহলে তাদের ব্যর্থ করতে হবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা ২৪-এ গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনীতি করার অধিকারই নেই।’

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুধু ৭ মার্চ পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মার্চ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ৭ নভেম্বরও কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এই দিবসটি পালন করতে দেয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়া সম্ভব হতো না। অথচ স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার বারবার কটাক্ষ করেছে। তাঁকে ‘দশ টাকার মেজর’ বলেও উপহাস করা হয়েছে। তবে জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ভারত বাংলাদেশে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ৩ নভেম্বর সেই প্রচেষ্টা সফল হলেও ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসায়। তিনি ক্ষমতা দখল করেননি, বরং জনগণ তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল।

তিনি বলেন, যারা বিএনপি জোরপূর্বক ক্ষমতায় এসেছিল বলে দাবি করে, তারা ইতিহাস বিকৃত করছে এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন, তখনো একাত্তরের রাজাকার ও ২০২৪ সালের রাজাকাররা একাকার হয়ে সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একাত্তরের রাজাকার জামায়াতে ইসলামী এবং ২০২৪ সালের রাজাকার আওয়ামী লীগ—উভয় পক্ষই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। অতীতের মতো এবারও তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন