শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চামড়াশিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি ও শিল্প অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মন্ত্রীর এসব পরিদর্শনে কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
সফরের অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে কর্মকর্তারা গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন।
ইস্তাচ পরিচালিত কেন্দ্রটির দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা ৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের নগরগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভাগাড়ের ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
একই দিন তুরস্কের তুজলায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজ, প্রতিনিধি এবং তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অবদান সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
পরিদর্শনে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, অভিন্ন অবকাঠামো ব্যবহার এবং চামড়া উৎপাদনে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
পরে জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সেখানে কাঁচা চামড়া থেকে প্রস্তুত চামড়া তৈরি, ট্যানিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি এবং জুতা ও অন্যান্য পণ্যে ব্যবহারের উপযোগী চামড়া উৎপাদনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এরপর ৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। প্রতিষ্ঠানটি তাপীয় প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য শোধনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ইস্তাচের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওটি) পদ্ধতিতে কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে এনারগ্রম।
কেন্দ্রটির বার্ষিক শিল্পবর্জ্য শোধন সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত বর্জ্য শোধন ও জ্বালানি পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়াতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই