ঢাকা, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

আজীবন সম্মাননা পেলেন বাকৃবি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬:৫১, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আজীবন সম্মাননা পেলেন বাকৃবি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল অর্নেটের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এশিয়ান জার্নালিস্ট হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন (এজাহিকাফ) আয়োজিত ‘শিক্ষার আলোয় গড়ি আগামীর আলোকিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মঞ্জিলের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা ও সংগীতগুরু ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, দীর্ঘদিনের শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং দেশের কৃষি গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, এ সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনা তুলে ধরে অধ্যাপক মঞ্জিল বলেন, উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, উপকারী অণুজীবের ব্যবহার, জীবাণুভিত্তিক জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্ভিদ রোগ মোকাবিলায় গবেষণা চালিয়ে যেতে চান তিনি।

তিনি জানান, তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো বাকৃবিতে উদ্ভাবিত পিজি-ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তির উন্নয়ন, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ প্রযুক্তিতে উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম ব্যবহার করে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও রোগ দমনে সহায়তার পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও ছত্রাকনাশকের ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

অধ্যাপক মঞ্জিল আরও বলেন, কলার পানামা রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মাটিবাহিত রোগ ব্যবস্থাপনা, আলু ও টমেটোর ঢলে পড়া রোগ, সবজির রোগবালাইয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট নতুন রোগঝুঁকি নিয়েও তিনি গবেষণা করছেন।

তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করা নয়; বরং গবেষণার উদ্ভাবনকে কৃষকের ব্যবহার উপযোগী প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন