ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

জাককানইবিতে শিক্ষক নিয়োগে সিজিপিএ জটিলতা, শঙ্কায় সাবেক শিক্ষার্থী

জাককানইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:১৫, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৯, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জাককানইবিতে শিক্ষক নিয়োগে সিজিপিএ জটিলতা, শঙ্কায় সাবেক শিক্ষার্থী

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষক নিয়োগে বিভাগভেদে ভিন্ন সিজিপিএর শর্ত নির্ধারণ করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের সাবেক শিক্ষার্থী আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ।

গত ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগ অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পৃথক সিজিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ও সমাজবিজ্ঞানসহ কয়েকটি বিভাগে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ চাওয়া হলেও নৃবিজ্ঞানে ৩.৬০ এবং মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৩.৭৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেসব বিভাগে ৩.৭০ থেকে ৩.৭৫ সিজিপিএ চাওয়া হয়েছে, সেসব বিভাগের একাধিক ব্যাচে এ মানের ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী নেই। ফলে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে আবেদনের সুযোগ হারাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, ইউজিসির প্রচলিত নিয়োগনীতিতে সাধারণভাবে ৩.৫০ সিজিপিএকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান লাবণ্যসহ অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে এক্সিম ব্যাংক এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক নিত্যানন্দ চন্দ্র বর্মনও উচ্চ সিজিপিএর শর্তের যৌক্তিকতা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মইনুল রাকিবও নিয়োগের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দিতে উচ্চ সিজিপিএর শর্ত নির্ধারণ করা উচিত নয়।

এদিকে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণের দায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দাবি, বিভাগগুলোর পাঠানো চাহিদা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিভাগগুলোর অনুমতি ছাড়া শর্ত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

অন্যদিকে কয়েকটি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেই বিভাগগুলো চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির শর্ত সংশোধনের দাবিতে ১১ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, ইউজিসির সমন্বিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিভাগগুলোর জন্য যৌক্তিক ও সমতাভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

বিভাগভেদে সিজিপিএর শর্তের এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিকতা এবং কার সিদ্ধান্তে এসব মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন