ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:৪৭, ৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১২, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইন যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগে কাউকে হয়রানি করা না যায়। পাশাপাশি নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানোর সুযোগ এবং অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

পরিমার্জিত খসড়াটি শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য নিশ্চিত করেই সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন