ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৫৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক ও কাঁসর। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। শঙ্খধ্বনি ও দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় উলুধ্বনি দিয়ে উৎসবে মেতেছেন ভক্তরা। এমন আবহে শুক্রবার শুরু হয়েছে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, চলছে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনা। মাটির প্রদীপ ও মোমবাতির আলোর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা। বিভিন্ন রঙের আলোর বিচ্ছুরণ পড়ছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার ওপর। এমন পরিবেশে বিভিন্ন বয়সের ভক্ত করজোড়ে দেব-দেবীকে প্রণাম করছেন। নিজের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা বিনয়ের সঙ্গে দেবীর কাছে তুলে ধরছেন তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) আগামীকাল রবিবার মহাসপ্তমী। এ বছর বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ দুই দিনজুড়েই মহাসপ্তমী তিথি থাকায় পরদিন থেকে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওই দিন ভক্তরা উপবাস রেখে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য ও সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই তার কামনা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা।

সরকারপ্রধান বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল রাখা সবার জন্য জরুরি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভের সময় বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে দশভুজা দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আয়োজন। দেবী দুর্গার সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হয়েছেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতী।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী জানান, মহাষষ্ঠীর সকালের পর্ব হলো কল্পারম্ভ। এ সময় তারা পূজা করার সংকল্প করেন। তাদের কল্পনায় দেবী বিল্ববৃক্ষে এসেছেন এবং তারা সেখানে তার পূজা করেছেন। এটিই কল্পারম্ভ। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের মণ্ডপ এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও লালবাগ ঋষিপাড়া মন্দিরসহ সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপের ‘জলজ’ থিম মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মণ্ডপটির নির্মাতা শিল্পী পার্থ জানান, জল থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি। দেবী দুর্গা জল থেকে আসবেন, আবার জলেই চলে যাবেন। এ ভাবনা থেকেই এবারের থিমের নাম রাখা হয়েছে ‘জলজ’।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অনুদানের পরিমাণও ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসবেন। আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি মিলছে। ফলে পূজাকে ঘিরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ উপভোগেরও সুযোগ পাচ্ছেন ভক্তরা।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন