শিরোনাম
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৪৮, ৩০ আগস্ট ২০২৬
ফাইল ছবি
ব্যবসা শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়; ইসলামে এটি হালাল জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। তবে উপার্জনের পরিমাণের পাশাপাশি সেই উপার্জনে বরকত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ব্যবসায় সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
নবী মুহাম্মদ (সা.) ব্যবসায়ীদের জন্য এমন কিছু নীতি ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন, যা অনুসরণ করলে একজন ব্যবসায়ী হালাল উপার্জনের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।
সততার সঙ্গে ব্যবসা করা
ব্যবসায় বরকতের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সততা। পণ্যের ভালো-মন্দ সম্পর্কে ক্রেতাকে সঠিক তথ্য জানানো এবং কোনো ত্রুটি গোপন না করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি সত্য বলে এবং পণ্যের বিষয়গুলো স্পষ্ট করে, তাহলে তাদের লেনদেনে বরকত দেওয়া হয়। আর মিথ্যা বলা বা তথ্য গোপন করলে সেই বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
অর্থাৎ বেশি লাভের আশায় প্রতারণা নয়; বরং সত্য ও স্বচ্ছতাই ব্যবসার মূলনীতি হওয়া উচিত।
মাপে ও ওজনে কম না দেওয়া
ব্যবসায় মাপে, ওজনে বা পরিমাণে কম দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দিত। কোরআনে মাপে-ওজনে কারচুপি করা ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তাই একজন মুসলিম ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতার প্রাপ্য পরিমাণ ঠিকভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সামান্য লাভের জন্য অন্যের অধিকার নষ্ট না করাই ইসলামের শিক্ষা।
মিথ্যা কসম থেকে বিরত থাকা
পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করা ইসলামে গুরুতরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এতে হয়তো কোনো পণ্য বিক্রি হয়ে যেতে পারে, কিন্তু এমন উপার্জনে বরকত থাকে না।
নবীজি (সা.) সতর্ক করেছেন, মিথ্যা কসম পণ্য বিক্রি করাতে সাহায্য করলেও এর মাধ্যমে উপার্জনের বরকত নষ্ট হয়।
—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
সকালকে কাজে লাগানো
নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য দিনের শুরুর সময়ে বরকতের দোয়া করেছেন। হাদিসে এসেছে, তিনি তাঁর উম্মতের সকালবেলার কাজে বরকতের জন্য দোয়া করেছিলেন।
—সুনান আবু দাউদ, জামে তিরমিজি
তাই একজন ব্যবসায়ী দিনের শুরুটা নামাজ, দোয়া ও ইতিবাচক মানসিকতা দিয়ে শুরু করে কাজে মনোযোগী হতে পারেন।
হালাল উপার্জনের চেষ্টা
ব্যবসায় বরকতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো উপার্জনের পথ হালাল রাখা। প্রতারণা, জালিয়াতি, ঘুষ, অন্যের অধিকার আত্মসাৎ কিংবা নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা থেকে দূরে থাকা জরুরি।
ইসলামে অর্থের পরিমাণের চেয়ে অর্থ কীভাবে উপার্জিত হচ্ছে—এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দান-সদকার অভ্যাস করা
আল্লাহর পথে দান করা সম্পদ কমিয়ে দেয়—এমন ধারণা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং হাদিসে দানের মাধ্যমে সম্পদে কল্যাণের কথা এসেছে।
তাই ব্যবসার আয় থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল হতে পারে।
বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বা ইস্তিগফার করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। কোরআনে হজরত নুহ (আ.) তাঁর জাতিকে ইস্তিগফারের প্রতি উৎসাহিত করেছিলেন এবং এর সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক ও সম্পদ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই