শিরোনাম
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:২৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আগাম আমন ধান কাটার পর উঁচু জমিতে আলুর বীজ বপন শুরু করেছেন তারা।স্থানীয়ভাবে সেভেন জাতের আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। গত বছর এ জাতের আলু চাষ করে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে বিঘাপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভের কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শীতের আগে সেভেন জাতের আলু বপন করলেও তেমন ক্ষতি হয় না। ফলনও ভালো হয়। গত বছর মৌসুমের শুরুতে এ আলু প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে আলু বপনের উপযুক্ত সময়। তবে লাভের আশায় এ বছর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেই আগাম আলুর বীজ বপন শুরু করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, গত বছর আগাম আলু চাষ করে মোটামুটি লাভ করেছেন। এবার নিজের উৎপাদিত বীজ থাকায় খরচ কম হবে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না হলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
একই এলাকার কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি না হলে এবারও আলু চাষে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলুর জমিতে কাজ করা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, টিটুল মিয়া ও একরামুল হক বলেন, গত দুই মাস কাজ না থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়েছে। এখন আলুর জমিতে কাজ পেয়ে তাদের সংসার ভালো চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, দেশের মধ্যে প্রথম আলু বপন ও উত্তোলন এই এলাকায় হয়। বাজারে আগাম আলু ওঠায় কৃষকরা ভালো দাম পান।
তিনি বলেন, সেভেন জাতের আগাম আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হয়ে উঠেছে। এবার সেভেন জাতের পাশাপাশি কারেজ লাল আলুও চাষ করছেন কৃষকরা। বাজারে এর চাহিদা থাকায় ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই