ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

জাপানে কামরুল হাসান লিপুর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু

প্রকাশ: ১২:১২, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জাপানে কামরুল হাসান লিপুর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, নকশাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক কামরুল হাসান লিপুর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী ‘ডট: দ্য বিগিনিং অব এভরিথিং’ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাপানের ইয়োকোহামার বিখ্যাত গ্যালারি শিমিজুতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

ছয় দিনব্যাপী এ বিশেষ প্রদর্শনী শিল্পীর দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন শিল্পচর্চার এক অনন্য মাইলফলক। এতে তার ক্যানভাসে বাংলাদেশি লোকঐতিহ্য, মানুষের জীবন ও স্মৃতি এবং জাপানে বসবাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এক নান্দনিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংলাপ ফুটে উঠেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বরেণ্য আন্তর্জাতিক চিত্রশিল্পী এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বর্ণাঢ্য সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাৎসুদো সিটি কাউন্সিলর মির কাজুয়ে, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া ছিলেন জাপানের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, ইয়োকোহামা পোর্ট ইন্ডিপেনডেন্ট প্রদর্শনীর উপদেষ্টা ও জাপান আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আদানো ইয়াসুনোরি; ঐতিহ্যবাহী কাগজ কাটার শিল্পী মিতা চিকাকো; বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপানের সভাপতি বাদল চাকলাদার ও সাধারণ সম্পাদক হাকিম মো. নাসিরুল; এবং গ্যালারি শিমিজুর পরিচালক শিমিজু কাজুয়ে।

শিল্পী লিপুর শিল্পদর্শনে ‘ডট’ বা একটি বিন্দু কেবল ক্যানভাসের সাধারণ কোনো চিহ্ন নয়। তার নিজস্ব সৃজনশীল দর্শন অনুযায়ী, একটি ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে যেমন রেখা, রেখা থেকে আকার এবং ক্রমান্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র রূপ লাভ করে, ঠিক তেমনি মানুষের মনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, শৈশবের স্মৃতি কিংবা আকস্মিক কোনো ভাবনা থেকেই একটি নতুন মহাবিশ্ব বা সৃষ্টির সূচনা হতে পারে। এই চিরন্তন ভাবনা থেকেই প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য বিগিনিং অব এভরিথিং’। এটি মানুষের জীবনশক্তির সম্ভাবনা ও অন্তহীন শিল্পযাত্রার প্রতীক।

শিল্পী লিপুর চিত্রকর্মের প্রধান শক্তি হলো উজ্জ্বল রঙের পরিমিত ব্যবহার, জোরালো তুলির আঁচড় এবং আধা-বিমূর্ত প্রকাশভঙ্গি। তার চিত্রপটে বাংলাদেশের পরিচয় ও লোকজ সংস্কৃতি অত্যন্ত গভীরভাবে উপস্থিত। সেখানে বারবার অনন্য মহিমায় উন্মোচিত হয়েছে বাঙালি নারীর আত্মমর্যাদা, অভিব্যক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা, গ্রামীণ পাখি ও মাছের মতো পরিচিত অনুষঙ্গ তার শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

জাপানের বিখ্যাত টোকিও ইনস্টিটিউট অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন থেকে ২০১২ সালে চিত্রকলায় চারুকলার উচ্চতর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন লিপু। তার ক্যানভাসে বাংলাদেশি আবেগের পাশাপাশি জাপানি নান্দনিকতার সংযম ও পরিমিতিবোধের চমৎকার সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

নিজের একক চিত্রকর্ম সৃষ্টির পাশাপাশি কামরুল হাসান লিপু গত দেড় দশক ধরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শিল্প-যোগাযোগের একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে কাজ করছেন। ২০০৮ সালে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘কাহাল আর্ট গ্রুপ’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘কাহাল গ্যালারি’র মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু যৌথ প্রদর্শনী, কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করেছেন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ, জাপান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শিল্পী বলেন, ‘শিল্পই জীবন, আর জীবনই শিল্প। এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হলো জাপানের চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের অনন্য শিল্প-সংবেদনশীলতা, রূপ-রস ও আমাদের গৌরবময় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল রূপটি সার্থকভাবে তুলে ধরা।’

ইয়োকোহামার গ্যালারি শিমিজুতে প্রদর্শনীটি আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন