শিরোনাম
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:০৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বরগুনার আমতলী উপজেলার ৫ নম্বর চাওড়া ইউনিয়নে ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। তাদের প্রত্যাশা, গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, উন্নত, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত চাওড়া। বাবার আদর্শ ও জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন এই মাটির সন্তান ও তরুণ যুবনেতা মো. মেহেদী জামান রাকিব। তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ।
রাকিব চাওড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি গ্রামের মরহুম আখতারুজ্জামান কামালের ছেলে। পেশাগত জীবনে তিনি এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রিধারী একজন শিক্ষিত তরুণ।
তার রক্তে মিশে আছে জনসেবার রাজনীতি। তার বাবা মরহুম মো. আখতারুজ্জামান কামাল ছিলেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আমতলী উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তিনি আমতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থেকে সেবা করা।
হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেননি রাকিব। ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। বাবার আদর্শ ধারণ করে তিনি আমতলী সরকারি এ কে স্কুল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, আমতলী পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে রাকিবের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি চাওড়াকে ইট-পাথরের উন্নয়নের পাশাপাশি যুবসমাজের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে উন্নত করতে চাই।”
আধুনিক চাওড়া গড়ার পরিকল্পনায় তার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার প্রসার, পরিত্যক্ত সরকারি জমিতে কৃষিকাজ এবং বদ্ধ জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মাছ চাষ। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দ বৈষম্যহীনভাবে বণ্টন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সব নাগরিক সেবা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রদান এবং কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এলাকার তরুণ ভোটাররা জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তায় খানাখন্দের কারণে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাকিব নিজ উদ্যোগে সংস্কারকাজ করেছেন। এ ছাড়া অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা, মসজিদ-মন্দিরে অনুদান এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এসব উদ্যোগের কারণে তারা রাকিবকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।
ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দলের দুঃসময়ে রাকিব নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। এ সময় তিনি মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তারা। তার বাবা আখতারুজ্জামান কামাল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের আশা, জেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা রাকিবের মতো একজন দক্ষ সংগঠক ও ত্যাগী নেতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন।
স্থানীয় ভোটাররা বলেন, “রাকিবের বাবা কামাল ভাই ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ। রাকিব ছেলেটিও বাবার মতো বিনয়ী ও শিক্ষিত। রাকিবের মতো ছেলে চেয়ারম্যান হলে আমাদের ইউনিয়নে উন্নয়নের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাবার মতো সাংগঠনিক দক্ষতা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সবার সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা রাকিবকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী, তরুণ ও যুবসমাজের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে আধুনিক চাওড়া গড়ার স্বপ্ন দেখছেন মেহেদী জামান রাকিব।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস