ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

বাগেরহাটে ভূগর্ভস্থ বালু লুটের মহোৎসব, হুমকিতে গ্রাম-সড়ক

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩:১৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে ভূগর্ভস্থ বালু লুটের মহোৎসব, হুমকিতে গ্রাম-সড়ক

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় একটি চক্র প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে চিতলমারী উপজেলার গ্রামগুলোর মাটির নিচের স্তর ফাঁপা হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় মাটি দেবে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বালু উত্তোলনের জন্য মাটির নিচে দুটি পাইপ প্রবেশ করানো হয়। একটি পাইপ দিয়ে পানির প্রবাহের মাধ্যমে মাটির তলদেশের শুকনো বালু ক্রমাগত ভেজানো হয়। অন্য পাইপ দিয়ে পানি মিশ্রিত সেই বালু ভূগর্ভ থেকে তোলা হয়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত এসব ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী মেশিন’ বলে অভিহিত করেন। এসব যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হয়।

চিতলমারীতে এ ধরনের প্রায় ১৫টি ড্রেজার মেশিন রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মেশিন দিয়ে উপজেলার টেকেরবাজার, পাঙ্গাশিয়া, দরিউমাজুড়ি, চরবানিয়ারী উত্তরপাড়া, শান্তিখালী উত্তরপাড়া, কলাতলা, চরবড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয় হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও ফসলি জমি।

এলাকাবাসী বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। যত্রতত্র বালু উত্তোলন প্রতিরোধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

সাংবাদিক ও পরিবেশবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভূগর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে ভূমিধস ও মাটি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, শান্তিখালী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। তবে উপজেলার অন্য এলাকাগুলোতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। ভূগর্ভ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন