ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যুগান্তকারী ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নবম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মানজনক অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এদিন ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) জাতীয় পতাকা পাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সেনাবাহিনীর এই গৌরবময় অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা শুধু একটি পতাকা নয়। এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হলেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেছিলেন। ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলে মনে করে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছে।

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেনাসদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনে এবং দেশের ভেতরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন