শিরোনাম
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪:৪২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে যশোরের মণিরামপুরের এক দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হলেন মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন। কক্সবাজারে পারিবারিক ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন।
তুহিনের চাচাতো ভাই ও মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন তুহিন। দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে তুহিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে তানজির মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্বজনেরা। তবে তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তুহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান রিসোর্ট এলাকায় দেখাচ্ছিল বলে জানান রিয়াজ। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের শৌচাগার থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের খবর পান স্বজনেরা। এরপর থেকেই তুহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, শনিবার থেকে তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রোববার সকালে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রিন্স বলেন, ‘তুহিন ও তার স্ত্রী, দুই মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, আমরা নিশ্চিত নই। কক্সবাজারে পৌঁছালে প্রকৃত অবস্থা জানতে পারব।’
তবে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই দম্পতি ও তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, মরদেহগুলো স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই