ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:৩০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানের বৃহৎ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেন, আসুন, একসঙ্গে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করি।

তিনি আরও লিখেন, তার চলমান জাপান সফর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এই অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তরিত করা। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা করেছি, যার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিনিয়োগ শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং আমাদের তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছি।

সহযোগিতার আরেকটি প্রধান ক্ষেত্রের ওপর আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, উভয় দেশ যৌথ সমৃদ্ধির একটি নতুন কাঠামোর অধীনে বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিগ-বি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নবায়িত সহযোগিতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ)-এর দ্রুত বাস্তবায়ন, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তব রূপ দিতে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মিয়ানমারে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে টোকিওর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন, আর মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম এবং আমাদের এই যাত্রাপথে দেশটি একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে রয়েছে।

তারেক রহমান জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা এবং সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্বারা চালিত একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি তাকাইচি, জাপান সরকার এবং জাপানের জনগণকে তাদের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন