শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:২২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৮:২৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে মধ্যরাতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রবল বেগে চলছে এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছাকাছি পুদুচেরির ইয়ানামের কাছে এটি আছড়ে পড়ে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। যা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন।
মৌসম ভবনের বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশে ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। বেড়েছে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ। বেশ কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় গাছগুলো উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত সড়ক থেকে গাছগুলো সরানোর ব্যবস্থা করছে। ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ফ্লাইট। পাশাপাশি ট্রেন চলাচলও বাতিল করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে ইতোমধ্যে বহু মানুষকে সরিয়ে এসব কেন্দ্রে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এসব জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বৃহস্পতিবারও কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায়।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও ঝড়বৃষ্টির কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী শনিবার পাহাড় ও সংলগ্ন পাঁচ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস