শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:২৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে রোববারই ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ‘কাজটি শেষ করতে হবে’ অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হতে পারে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা কতটা এগিয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হামলা করব কি না, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’
ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে ইরান এখনো সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’
ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার একমাত্র উদ্দেশ্য বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো অভিযান দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল বেড়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানিয়ে সামরিক অভিযান ও আলোচনার—দুই পথই খোলা রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আমেরিকানদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ‘সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে’। তবে এর মধ্যেও তেহরানের উচিত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া বলে মত দিয়েছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো হয়নি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস