শিরোনাম
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জিয়াউর রহমান জিয়া। ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
জীবিকার তাগিদে সুদূর কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান জিয়া। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো, স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তার প্রবাসজীবন। মৃত্যুর ১২ দিন পর দেশে ফিরেছেন তিনি, তবে জীবিত নয়- ফ্রিজিং গাড়িতে করে ফিরেছে তার নিথর দেহ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের পরিবেশ। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন স্বজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
নিহত জিয়াউর রহমান জিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। গত ১২ অক্টোবর কুয়েতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। অবশেষে ১২ দিন পর সেই অপেক্ষার অবসান হলেও তা পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে অসহনীয় বেদনার মুহূর্ত।
জিয়ার মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে মানুষটি পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই মানুষটিকেই ফিরতে হলো নিথর দেহে। পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও প্রত্যাশার জায়গা দখল করে নেয় শোক ও শূন্যতা।
প্রবাসে কর্মরত একজন মানুষের মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণের অবসান ঘটে না, থমকে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নও। জিয়াউর রহমান জিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) বাদ আসর আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জিয়াউর রহমান জিয়ার মৃত্যুতে স্থানীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মহান আল্লাহ যেন মরহুমের জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এই কঠিন শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস