ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

৯ কার্তিক ১৪৩৩, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় গাড়িচালকের সঙ্গে পালালেন বিএনপি নেতার স্ত্রী

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯:৩১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় গাড়িচালকের সঙ্গে পালালেন বিএনপি নেতার স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহে এক বিএনপি নেতা সুজন মিয়ার স্ত্রীকে স্বর্ণালংকারসহ ভাগিয়ে নিয়ে গেছেন পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচন। বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অরচন মিয়া ও স্ত্রী সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুরিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আদালত সোর্পদ করেছে মেলান্দহ থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলায় দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচন (৪৫) উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। সে সুমি আক্তারের কথিত মামা হিসেবে পরিচিত। ও সুমি আক্তার (২৭) কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। ভুক্তভোগী মো. সুজন ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সে দক্ষিন ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলী ছেলে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয় সুজনের। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার দেন তিনি। এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির পাতানো মামা অরচন তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন সেখানে গিয়ে সুমিকে তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় সুজনের মা ছেলের বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বললেও তিনি অরচনের সঙ্গে চলে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পান সুজন। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠালেও সেখানে সুমিকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে তার চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।

পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে শুক্রবার ভোর রাতে অরচনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিএনপি নেতা সুজন বলেন, বিয়ের মাত্র ২২ দিনের মাথায় সে আমার সঙ্গে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলাম। এখন সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে পড়েছি।

মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন