শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৩৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে চনমনে করে তুলতে পারে। অতিরিক্ত কিছু না মিশিয়ে পরিমিত কফি পান করলে তা সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফিতে চুমুক দেওয়ার আগে এর সঙ্গে কী মেশাচ্ছেন, তা জানা জরুরি।
সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত ক্যালোরির জন্য চিনি ও দুধকে দায়ী করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় এমন একটি উপাদানের কথা উঠে এসেছে, যা মানুষের ধারণার চেয়েও বেশি ক্যালোরি যোগ করছে।
আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় প্রায় ৩০ হাজার আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণ প্রায় একই ছিল। গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার বা দুধের বিকল্প উপাদানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরীক্ষা জরিপের আটটি ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যতালিকা পর্যালোচনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে প্রতিদিন গড়ে ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০-এ দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটে।
২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে আসে। এ উপাদান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি যোগ হচ্ছিল। অন্যদিকে চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি আসছিল।
গবেষকদের মতে, এ পরিবর্তনের কারণ মানুষ বেশি কফি পান করতে শুরু করেছে, তা নয়। বরং কফিতে মেশানো উপাদানের ধরন বদলে গেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার এখন চিনি ও দুধ—দুটিকেই ছাড়িয়ে গেছে। নন-ডেইরি ক্রিমারে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি থাকতে পারে, যা ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ায়। এটি কফিতে ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার রয়েছে। তবে উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি থাকার কারণ কী?
নন-ডেইরি ক্রিমার এমন একধরনের পণ্য, যাতে গরুর দুধ ব্যবহার না করেই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও অনেক সময় মিষ্টি করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই যে কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, তা নয়। পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, অতিরিক্ত চিনি, স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী উপাদান এবং বিভিন্ন সংযোজক থাকতে পারে।
কিছু ক্রিমারে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে। চর্বি প্রতি গ্রামে প্রোটিন বা শর্করার তুলনায় বেশি ক্যালোরি সরবরাহ করে। ফলে প্রতিদিন কফিতে কয়েক চামচ ক্রিমার মেশালে মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন গড়ে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ গ্রামে। এ পরিবর্তনের ফলে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে ক্রিমার একটি বড় উৎস হয়ে ওঠে।
নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়েও ক্ষতিকর?
গবেষণাটিতে শুধু আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কদের কফিতে বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে গড়ে কত ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছে, তা তুলনা করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি নন-ডেইরি ক্রিমারই অস্বাস্থ্যকর কিংবা দুধ ও চিনি সব সময় ভালো বিকল্প।
সাধারণ দুধে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে চিনি মূলত উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ ছাড়াই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। নন-ডেইরি ক্রিমারের উপাদান একেক পণ্যে একেক রকম হতে পারে। কোনো কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি থাকে, আবার কিছু পণ্যের পুষ্টিগুণ ভিন্ন হতে পারে।
তাই কফির সঙ্গে কী মেশাচ্ছেন, তা বুঝতে পণ্যের উপাদান তালিকা, পুষ্টিতথ্য ও ব্যবহারের পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি। একটি ক্রিমার অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে অন্য একটি ক্রিমার বেশি পরিমাণে ব্যবহারের তুলনায় কম ক্যালোরি যোগ করতে পারে।
সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে
সকালের পছন্দের পানীয়টি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
পণ্যের লেবেল দেখুন: বিভিন্ন ক্রিমারে ক্যালোরি, অতিরিক্ত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ তুলনা করুন। পাশাপাশি প্রতি পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল রাখুন।
পরিমাপ করে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে কাপে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই নির্দিষ্ট ও পরিমিত পরিমাণে ক্রিমার ব্যবহার করুন।
ধীরে ধীরে পরিমাণ কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ হলে হঠাৎ অভ্যাস পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনুন।
চিনিমুক্ত বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী চিনিমুক্ত উদ্ভিদভিত্তিক বিকল্প বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যটির পুষ্টিতথ্যও দেখে নেওয়া জরুরি।
স্বাদযুক্ত উপাদান সীমিত রাখুন: মিষ্টি করা ক্রিমার ও বিভিন্ন স্বাদের সিরাপ কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি যোগ করতে পারে। তাই এগুলোর ব্যবহার পরিমিত রাখুন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস