শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৪২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্প্রতি এক গবেষণায় বয়স্কদের এসব রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭টি অভিন্ন ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।
তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যসমস্যাগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মস্তিষ্কের সুস্থতা রক্ষার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিঘামের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর পর্যালোচনার ভিত্তিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকেরা এমন কিছু বিষয় পরীক্ষা করেছেন, যেগুলো দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি, এসব বিষয় জীবনযাত্রার মান ও মৃত্যুহারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা-ও বিশ্লেষণ করেছেন তারা।
গবেষণাটি জার্নাল অব নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি নামের চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
মস্তিষ্কের সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকির কারণ
গবেষকদের মতে, স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিন্ন ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চ রক্তচাপ;
- কিডনির রোগ;
- খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা;
- কোলেস্টেরল;
- অ্যালকোহল গ্রহণ;
- ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস;
- শ্রবণশক্তি হ্রাস;
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা;
- শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা;
- জীবনের উদ্দেশ্যবোধের অভাব;
- ঘুমের সমস্যা;
- ধূমপান;
- সামাজিক মেলামেশা;
- মানসিক চাপ।
গবেষণায় মোট ১৭টি অভিন্ন ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মূল সূত্রে উল্লেখিত তালিকায় ১৭টি কারণের সবগুলো আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত নেই।
গবেষকেরা জানান, কয়েকটি ঝুঁকির কারণ তিনটি রোগের মধ্যে অন্তত দুটির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তবে প্রতিটি ঝুঁকির কারণের সঙ্গে প্রতিটি রোগের সমান মাত্রার সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
জীবনযাত্রায় ছোট পরিবর্তনও হতে পারে উপকারী
গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ব্রেন কেয়ার ল্যাবসের গবেষক ডা. সানজুলা সিং বলেন, মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের অভিন্ন ঝুঁকির কারণগুলো শনাক্ত করার মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধের সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, একসঙ্গে জীবনযাত্রার সব দিক পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে মানুষ এক-দুটি সহজ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
এ ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমানো, বেশি করে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ঝুঁকির কারণের সঙ্গে একটি রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেলেই এটি প্রমাণিত হয় না যে ওই কারণটিই সরাসরি রোগটি সৃষ্টি করে।
তারা আরও বলেছেন, পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করার ফলে প্রাসঙ্গিক কিছু ঝুঁকির কারণ শনাক্ত না-ও হয়ে থাকতে পারে।
তা সত্ত্বেও, গবেষণার ফলাফল উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই মস্তিষ্কের সুস্থতার যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে জীবনযাত্রায় ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহায়ক হতে পারে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস