ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

‎জাল দলিলের তদন্ত নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার-সাংবাদিকের বিরোধ

‎নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭:৪৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

‎জাল দলিলের তদন্ত নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার-সাংবাদিকের বিরোধ

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

‎নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে সন্দেহজনক দলিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলেছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তার দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জেরে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দাবি করেছেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

‎সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যে ২১১/২০০১ নম্বর দলিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত নথির অসংগতি সামনে আসে।

‎এ ঘটনায় জমির মালিকানা দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ১১৩/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রতিবেদন জমা দেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক।

‎সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রের দাবি, তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে।

‎সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর গত ৪ অক্টোবর সাংবাদিক সেলিম তার কার্যালয়ে আসেন। এরপর গত ৯ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎সিরাজুল হকের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে তার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান সাব-রেজিস্ট্রার।

‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া। তিনি দাবি করেন, তাদের দলিল জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম বলেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

‎সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সোহরাব হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তার ধারণা। জাল দলিলের অভিযোগে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাভোগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‎এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, একটি দলিল টেম্পারিং করে জমা খারিজের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তে জাল দলিলের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দেন বলে জানান সহকারী কমিশনার। পরে ওই দলিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ‎তবে দলিলের বৈধতা, তদন্তের যথার্থতা এবং সংবাদ প্রকাশ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন