ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সমাজের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:১৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সমাজের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিজ কর্ম ও উদ্যোগে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিন ব্যক্তি। ছবি: পিএমও

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।

আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কাজের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারা হলেন—বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন বুয়েট স্নাতক নায়লা

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নায়লা শারাফ। পরে জনতা ব্যাংকেও কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত না থাকলেও গড়েছেন বিদ্যালয়

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। পা দিয়ে লিখতে শিখে ২০০৭ সালে পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ শিক্ষার্থী ও ১০ শিক্ষক রয়েছেন।

পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ। তার কথা শুনে নতুন স্কুলভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুল

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তাদের কাজ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন