ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্পের ছাড়, ভারতের কী হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্পের ছাড়, ভারতের কী হবে?

ফাইল ছবি

রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতকে দীর্ঘদিন চাপ দিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি এ কারণে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করেছিলেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এবার রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে কয়েক ধাপে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েক ধাপে সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও শীতকালে ঘর গরম রাখতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিও বাড়ে। নির্বাচনের আগে এ চাপ কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখানেই ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত বৈপরীত্য সামনে এসেছে। ভারতও দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার যুক্তিতে রাশিয়ার তেল কেনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু একই যুক্তিতে ভারতকে ছাড় দিতে এখনো রাজি হয়নি ওয়াশিংটন।

কংগ্রেসের বিরোধিতায় বাড়ছে চাপ

রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি আমদানি মস্কোর যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরবরাহে সময় লাগার কারণে নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত কমবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভারত কি পাবে নিষেধাজ্ঞায় ছাড়?

রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সাময়িক ছাড় কার্যকর করে, তা পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তবে নয়াদিল্লির জন্য আলাদা কোনো ছাড়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনলে ভারতের বিরুদ্ধে একই কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানও বজায় রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানির দাম ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়াবিষয়ক নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের স্বার্থে রুশ জ্বালানি আমদানিতে ছাড় দেওয়ার পর ভারতকেও একই ধরনের সুযোগ দিতে কতটা প্রস্তুত হয় ওয়াশিংটন।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন