শিরোনাম
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮:৫২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ট্যাক্স ও রাজস্বের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, একটি মহল তাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করতে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
জাকির হোসেন জানান, আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান। তদন্তের সময় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপনও উপস্থিত ছিলেন। ওই তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জাকির বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এককভাবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা তার নেই। সব অর্থ চেকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রাপকদের পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানান, গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় ওই ইউনিয়নের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, আমতলী সদর ইউনিয়নের ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেলের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।
জাকিরের ভাষ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সদর ইউনিয়নে যোগদানের পর সাত মাসে ট্যাক্স বাবদ ১৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ১ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ হাজার টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ১৮ হাজার ৯৭৫ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত জমা স্লিপ তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, বাকি অর্থ পরিষদের রং করা, আইপিএস কেনা, কলাপসিবল গেট মেরামত এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সভায় আপ্যায়নের কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এসব ব্যয়ের ভাউচারে বর্তমান ইউপি প্রশাসক, তিনি ও প্যানেল চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষর রয়েছে এবং সব সদস্যের সম্মতি ছিল বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্যও জাকিরের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ তালুকদার বলেন, জাকির দায়িত্ব নেওয়ার পর আদায় করা ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুম বিল্লাহর দাবি, অভিযোগটি মূলত সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নিজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে। তার ভাষ্য, নিজামুদ্দিন ট্যাক্সের প্রায় চার লাখ টাকা নিয়ে চলে গেছেন, যার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. তাপসও জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জাকির নিয়মিত অফিস করায় পরিষদের কার্যক্রমে গতি ফিরেছে এবং মানুষের ভোগান্তি কমেছে।
তবে আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভায় তিনি আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চান। জাকির বিষয়টি তার এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান এবং টাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলেন। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই