শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ফার্মেসি ব্যবসার আড়ালে ডেন্টিস্ট পরিচয়ে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। মিরপুর-চন্দ্রছড়ি সড়কে অবস্থিত বাদশা ফার্মেসির মালিক কথিত ডেন্টিস্ট শফিকুর রহমানের মিনি ডেন্টাল ক্লিনিকের অনুমোদন ও তার চিকিৎসাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দন্ত চিকিৎসার পাশাপাশি ফার্মেসির আড়ালে মিনি ক্লিনিক পরিচালনা, চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্য বিভাগের অসাধু ব্যক্তি ও কয়েকজন সাংবাদিককে মাসোহারা দিয়ে তিনি অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং সেখানে কী ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দন্ত চিকিৎসার নামে রোগীদের কী ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে মিরপুর বাজারের বাদশা ফার্মেসিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন কথিত ডেন্টিস্ট শফিকুর রহমান। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কোন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং মিনি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে কি না।
শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে চিকিৎসক বা দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট পেশাগত নিবন্ধন এবং চিকিৎসা প্রদানের আইনগত অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, ফার্মেসি ব্যবসার সুবাদে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। পুরুষ কর্মচারীর পরিবর্তে শুরু থেকেই তরুণী নারীদের কর্মী হিসেবে রাখার কারণে একাধিকবার তিনি লোকজনের হাতে নাজেহাল হয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর বাজারে এ নামে কোনো ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত নয়।
এ অবস্থায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, চিকিৎসাসেবার ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন এবং রোগীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস