ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেবীদ্বারে দিনমজুর হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০:১৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

দেবীদ্বারে দিনমজুর হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় অপর দিনমজুর আব্দুল মজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। অন্যদিকে, নিহত মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের সেকান্দর বাদশার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর কৃষিকাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের চুক্তিতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মজিদকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মোস্তফা কামাল। তিনি দেবীদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকার গণি কেরানীর বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে।

ঘটনার দিন ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে নবীয়াবাদ বিলের একটি টমেটোখেতে কাজ করতে যান। পরে লোকমুখে মোস্তফা কামাল জানতে পারেন, মোশাররফের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ তার মরদেহ পড়ে আছে। এ সময় ঘটনাস্থলে আব্দুল মজিদকে দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারার্থে পাঠানো হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। পরে আদালত আব্দুল মজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন