ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বরগুনায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ 

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০:১১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ২ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ 

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

বরগুনায় মাদকবিরোধী অভিযান ও হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি পৃথক অভিযানে পাঁচ মাদক কারবারি এবং হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা (পিপিএম-সেবা)-এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত হাসান খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বিপিএম এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক আহমেদ পিপিএম।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রথম অভিযান চালানো হয় সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি গ্রামে। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন দল সেখানে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও তারেক নামে দুজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২১ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ৬৪০ টাকা এবং একটি মিশুক গাড়ি জব্দ করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টায় কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল হাসানের নেতৃত্বাধীন দল কাওসার স্টোরের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে রুবেল সিকদার (৩৪) নামে একজনকে আটক করে। তার কাছ থেকে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি, ৯ পিস ইয়াবা এবং একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

একই রাতে সদর এলাকায় তৃতীয় অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ বা মধু ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। উপপরিদর্শক গোলাম হাফেজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনসহ তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় ১০৯/৩৮৪/৩৮৫/৫০৬ ধারায় ২০ নম্বর মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাকিরতবক এলাকায় রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে আরও দুই মাদকসেবীকে আটক করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মুকিত হাসান বলেন, বরগুনায় কোনো মাদক তৈরি হয় না। সব মাদক বাইরের জেলা থেকে আসে। এ কারণে শুধু বরগুনার মাদক ব্যবসায়ীদের নয়, বাইরের সরবরাহকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মাদক বিক্রির অর্থে কেনা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

মাদক ও প্রতারণামুক্ত নিরাপদ বরগুনা গড়তে ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন