ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

পিঠের ব্যথা নাকি কিডনির সমস্যা, বুঝবেন যেভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১:৫৩, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পিঠের ব্যথা নাকি কিডনির সমস্যা, বুঝবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

পিঠের ব্যথা ও কিডনির ব্যথার লক্ষণ অনেক সময় কাছাকাছি হওয়ায় অস্বস্তির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত পেশিতে টান, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার কারণে পিঠে ব্যথা হয়। অন্যদিকে, কিডনির ব্যথা কিডনিতে সংক্রমণ, পাথর কিংবা মূত্রনালির অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

দুই ধরনের ব্যথার পার্থক্য বুঝতে পারলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়। ভারতের ফর্টিস হাসপাতাল, শালিমার বাগের নেফ্রোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. যোগেশ ছাবড়া এক সাক্ষাৎকারে পিঠ ও কিডনির ব্যথার মূল পার্থক্য এবং যেসব লক্ষণ উপেক্ষা করা উচিত নয়, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ব্যথার সঠিক স্থান চিহ্নিত করা

ডা. ছাবড়ার মতে, পিঠের ব্যথা নাকি কিডনির সমস্যা, তা বোঝার একটি উপায় হলো ব্যথার স্থান খেয়াল করা। পিঠের ব্যথা সাধারণত পিঠের নিচের অংশে, মেরুদণ্ড ও এর আশপাশের পেশিতে বেশি অনুভূত হয়।

স্লিপ ডিস্ক বা স্নায়ুর ওপর চাপের কারণে ব্যথা হলে সেটি নিতম্ব কিংবা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, কিডনির ব্যথা শরীরের তুলনামূলক গভীরে অনুভূত হয়। সাধারণত মেরুদণ্ডের দুই পাশে, পাঁজরের ঠিক নিচের অংশে এ ব্যথা হতে পারে।

ব্যথার ধরনেও রয়েছে পার্থক্য

ডা. ছাবড়ার মতে, ব্যথার ধরন থেকেও এর উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। পিঠের ব্যথা সাধারণত মৃদু, শক্ত হয়ে থাকা কিংবা তীক্ষ্ণ প্রকৃতির হয়। ঝুঁকে কাজ করলে, ভারী কিছু তুললে, শরীর মোচড় দিলে বা দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে এ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুয়ে পড়লে বা চলাফেরা করলে ব্যথা কিছুটা কমে।

অন্যদিকে, কিডনির সমস্যাজনিত ব্যথা সাধারণত গভীর, তীক্ষ্ণ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে ব্যথা তীব্র ঢেউয়ের মতো আসতে পারে অথবা খিঁচুনির মতো অনুভূত হতে পারে। আবার কিডনিতে সংক্রমণ হলে একটানা ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ব্যথার ধরন দেখে নিশ্চিতভাবে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

কিডনির সমস্যার লক্ষণ

ডা. ছাবড়ার মতে, কিডনির ব্যথার সঙ্গে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া।
- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
- ঘোলাটে ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।
- জ্বর, শরীরে উত্তাপ অনুভব করা ও কাঁপুনি।
- বমি বমি ভাব।
- পিঠের নিচের অংশে বা শরীরের এক পাশে ব্যথা।

সাধারণ পেশির টানজনিত পিঠের ব্যথার সঙ্গে সাধারণত প্রস্রাবের সমস্যা বা জ্বর থাকে না। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেই যে কিডনির সমস্যা নেই, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ডা. ছাবড়ার মতে, পিঠ বা শরীরের পাশের ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের সময় ব্যথা কিংবা ক্রমাগত বমি বমি ভাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এসব লক্ষণ কিডনিতে সংক্রমণ বা পাথরের উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে।

তিনি আরও জানান, ব্যথা তীব্র হলে বা দিন দিন বাড়তে থাকলে, প্রস্রাব করতে না পারলে, বিভ্রান্তি দেখা দিলে, জ্ঞান হারালে কিংবা পানিশূন্যতার লক্ষণসহ বমি হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া পিঠের ব্যথার সঙ্গে পায়ে দুর্বলতা, কুঁচকি অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিলেও অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

পিঠ ও কিডনির ব্যথা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ মূল্যায়ন ও শারীরিক পরীক্ষা করে ব্যথার সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড কিংবা সিটি স্ক্যানের মতো পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

ডা. ছাবড়া নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই ব্যথার কারণ নিশ্চিত না হয়ে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন