ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

৯ কার্তিক ১৪৩৩, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

রাজধানীতে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ, আবেদনে নারীরা প্রায় দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪:৩৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীতে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ, আবেদনে নারীরা প্রায় দ্বিগুণ

ফাইল ছবি

রাজধানীতে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ বা সংসার ভাঙার ঘটনা। নির্যাতন, অবহেলা, সন্দেহ, মাদকাসক্তি, আর্থিক সংকট ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবকে দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যানেও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে নারীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের বিভিন্ন সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, পুরুষের তুলনায় নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন বা কার্যকরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৩৯৯টি তালাক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে নারীদের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার ৮৪৮টি এবং পুরুষদের পক্ষ থেকে ছয় হাজার ৫৫১টি।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তালাকের আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৮৬৭টি। এর মধ্যে নারীদের আবেদন ১২ হাজার ৪৫০টি, আর পুরুষদের সাত হাজার ৪১৭টি।

দুই সিটির পরিসংখ্যানে নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন বা কার্যকরের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ১ গুণ। তবে দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রে কার্যকর তালাকের সংখ্যা এবং উত্তর সিটির ক্ষেত্রে আবেদনের হিসাব দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই সিটির পরিসংখ্যানের ভিত্তি এক নয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ সিটিতে সাত হাজার ৫১৪টি তালাক কার্যকর হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৮টি দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটছে। উত্তর সিটিতে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে দুই হাজার ৮৫১টি তালাক। অর্থাৎ, সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি তালাক কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের চাপ, ভরণপোষণ না দেওয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি, সন্দেহপ্রবণতা, আর্থিক টানাপড়েন এবং পরিবারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বিচ্ছেদের পেছনে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সময় দেওয়া, যোগাযোগ রক্ষা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতিও দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাজধানীতে উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও এটিকে সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর মতে, দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ধৈর্যের অভাব এবং আলোচনা করে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা কমে যাওয়া বড় সংকট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন