ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

৯ কার্তিক ১৪৩৩, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ে মাতব্বরি করেন: শফিকুর রহমান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২:২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪২, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ে মাতব্বরি করেন: শফিকুর রহমান

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

আমরা এমন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি, তিনি সব মন্ত্রণালয়ে মাতব্বরি করেন। নিজের মন্ত্রণালয়ের অবস্থা খারাপ, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খুবই খারাপ। এভাবেই বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজারে এটিই তার প্রথম সাংগঠনিক সফর ও সংবাদ সম্মেলন। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় ঠিক থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ঠিক থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয় সামলাতে ব্যর্থ হয়ে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই তার অযাচিত হস্তক্ষেপ চলছে। এটি কোনোভাবেই সুশাসনের লক্ষণ নয়।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে এখন আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বাড়ছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে, কোনো দলের লাঠিয়াল হবে না। কিন্তু আমরা এর উল্টো চিত্র দেখছি।

এ সময় দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজেরা কোনো দলের নয়। তারা নিজেরা ডোবে, দলকেও ডোবায়। দল বিপদে পড়লে তারা সবার আগে পালিয়ে যায়। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামীতেও এ ধরনের দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই। তৃণমূল থেকেই তারা এ বার্তা স্পষ্ট করে দিতে চান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা লুটপাট ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই এখন রং বদলে বিভিন্ন দলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। যারা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে, তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, তাদের বিচার জনগণের আদালতে হবেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা দেশে একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান। বিরোধী দল হিসেবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। তবে দেশের স্বার্থে সরকার ভালো কাজ করলে সহযোগিতাও করবেন।

মৌলভীবাজারের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৌলভীবাজার চা ও প্রবাসী অধ্যুষিত একটি জেলা। কিন্তু জেলাটি এখনো উন্নয়নবঞ্চিত। জেলার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন ও ঐতিহাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে ৬০০ রুকন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরকে ঘিরে জেলার সাতটি উপজেলা, পাঁচটি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন