শিরোনাম
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:১৮, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে বন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যপ্রাণী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগান এবং বসতবাড়িতে বাড়ছে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ। গত চার মাসে শ্রীমঙ্গল থেকে ৬১টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে অজগর, পদ্ম গোখরা, বানর, মুখপোড়া হনুমান, গন্ধগোকুল ও চিতা বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। উদ্ধার করা প্রাণীর প্রায় ৭০ শতাংশই অজগর বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কখনো বসতঘরের সিলিংয়ে, কখনো রান্নাঘরে, আবার কখনো চায়ের দোকান কিংবা বাড়ির পুকুরে দেখা মিলছে বিশাল আকৃতির অজগরের। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা অজগর এবং প্রাণঘাতী বিষধর সাপের উপস্থিতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জুনে সাতটি, জুলাইয়ে ১২টি, আগস্টে ১৯টি, সেপ্টেম্বরে ২০টি এবং অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে পাঁচটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এসব প্রাণী উদ্ধারের পর উপযুক্ত পরিবেশে বনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সহসভাপতি উজ্জ্বল কুমার দাস সুমন বলেন, মৌলভীবাজারের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের বন্যপ্রাণী এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গভীর বনের কিছু অংশ দখল করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাটা হচ্ছে শতবর্ষী গাছ। এতে বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসংকটও তৈরি হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব বলেন, বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসার পেছনে শুধু খাদ্যসংকটই দায়ী নয়; বনে প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিও এর একটি কারণ। প্রাণীগুলো নতুন নিরাপদ আবাসের সন্ধানে বাইরে চলে আসছে। পরে সেগুলো উদ্ধার করে আবার বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে।
পরিবেশকর্মীদের মতে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় শুধু উদ্ধার কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বনের ভেতরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বনজ ও ফলদ গাছের ব্যাপক রোপণ এবং প্রাণীদের খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগ নেওয়া না হলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই