শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৪৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঋতু পরিবর্তন কিংবা পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের কারণে অনেকেই কমবেশি অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, এমন কোনো পদার্থের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথলাইন’-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যালার্জির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পরাগরেণু, ধুলাবালি বা ডাস্ট মাইট, পোষা প্রাণীর লোম বা খুশকি, ছত্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ওষুধ। অ্যালার্জি এড়ানোর সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হলো পরিচিত অ্যালার্জেন থেকে দূরে থাকা।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করে অ্যালার্জির লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. ঘরের পরিবেশ ও বাতাস পরিষ্কার রাখা
নাক স্যালাইন দিয়ে পরিষ্কার: স্যালাইন পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে নাকের ভেতরের পথ ও সাইনাস থেকে শ্লেষ্মা, অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান দূর হতে পারে।
হেপা ফিল্টার: বাড়িতে হেপা ফিল্টার ব্যবহার করলে বাতাসে থাকা পরাগরেণু, ধুলাবালি ও পোষা প্রাণীর লোম আটকে যায়। এতে ঘরের ভেতরের বাতাস তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে।
শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রক: শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রক ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে ছত্রাক ও মাইটের বিস্তার সীমিত করতে সাহায্য করে। এসব উপাদান অ্যালার্জির লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. খাবার ও প্রাকৃতিক উপাদান
ব্রোমেলেইন: আনারস ও পেঁপেতে পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা এই পরিপাককারী এনজাইম প্রদাহ ও ফোলাভাব কমিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে এ বিষয়ে আরও জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রোবায়োটিকস: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খাদ্যজনিত অ্যালার্জি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর উপকারিতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
স্টিঙ্গিং নেটল: ভিটামিন সি, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এই উদ্ভিদ প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
কোয়ারসেটিন: ব্রোকলি, ফুলকপি, সবুজ চা ও লেবুজাতীয় ফলে এই উপাদান পাওয়া যায়। এটি শরীরে হিস্টামিন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অ্যালার্জির লক্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভিটামিন সি: ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য প্রতিদিনের প্রস্তাবিত ভিটামিন সি গ্রহণের মাত্রা পুরুষদের ক্ষেত্রে ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ মিলিগ্রাম।
৩. এসেনশিয়াল অয়েল ও ভেষজ উপাদান
পুদিনার উপাদান: পেপারমিন্ট বা পুদিনা থেকে তৈরি উপাদানে মেন্থল, মেন্থোন ও মিথাইল অ্যাসিটেট থাকে।
ইউক্যালিপটাস তেল: অণুজীববিরোধী গুণের জন্য পরিচিত এই তেল ডাস্ট মাইট থেকে সুরক্ষার উপায় হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়। তবে ডাস্ট মাইটজনিত অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতার পক্ষে প্রমাণ বেশ সীমিত।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সব ধরনের অ্যালার্জি ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
অ্যানাফিল্যাক্সিস: এটি অত্যন্ত তীব্র ও জীবনঘাতী অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া। কোনোভাবেই ঘরোয়া উপায়ে এর চিকিৎসা করা উচিত নয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, রক্তচাপের পরিবর্তন, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি ও বমি হওয়া।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারে সতর্কতা
নতুন কোনো তেল ব্যবহারের আগে কনুইয়ের মতো ত্বকের ছোট একটি অংশে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে ২৪ ঘণ্টা পর কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখা গেলেও তেলটি সবার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
এসেনশিয়াল অয়েল কখনো পান করা উচিত নয়। এসব তেল মূল চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস