শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪২, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যসহ নির্দিষ্ট চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং সেবা, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবারের উৎপাদক এবং নির্ধারিত খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকেরাও পড়বেন।
এ ছাড়া পাইকারি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদন এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রবিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।
শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্যসহ স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বিধান রয়েছে। কিছু বিশেষায়িত খাদ্যের জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স—দুটিই প্রযোজ্য হতে পারে।
বিএফএসএর তথ্য অনুযায়ী, প্রবিধানের তফশিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ ব্যবহার করতে হবে।
প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা ফিতে করা হবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিএফএসএর মতে, নতুন প্রবিধান কার্যকর হলে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই